দুর্গাপুজোর পর বাঙালি পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। বাড়ি পরিষ্কার করা, আলপনা দেওয়া, লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকা, সরা সাজানো এবং নৈবেদ্য তৈরি করা—সব মিলিয়ে এই পুজোর রয়েছে আলাদা ঘরোয়া পরিবেশ। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় এবং অনেক পরিবারে রাতে জেগে পাঁচালি পাঠ বা নামস্মরণের রীতিও রয়েছে।
আপনি যদি বাড়িতে পুজো করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে শুধু তিথি জানলেই হবে না। পুজোর সময়, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ঘটস্থাপন, আলপনা, ভোগ এবং ধাপে ধাপে পুজোর নিয়মও আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। এই kojagari laxmi puja vidhi গাইডে পুরো আয়োজনটি সহজভাবে দেওয়া হলো।
Kojagari Laxmi Puja Vidhi: নিয়ম, উপকরণ ও পুজোর সময়
বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করতে হলে প্রথমে পুজোর জায়গা পরিষ্কার করে আলপনা দিন। এরপর লক্ষ্মীর সরা, মূর্তি বা ছবি স্থাপন করে ঘট বসানো হয়। ধূপ, প্রদীপ, ফুল, ধান, দূর্বা এবং অন্যান্য উপচার দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়।
এরপর পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লক্ষ্মীর পাঁচালি বা মন্ত্র পাঠ, নৈবেদ্য নিবেদন এবং আরতি করা যায়। কোজাগরী পূর্ণিমার রাত হওয়ায় অনেক পরিবারে জাগরণের রীতিও পালন করা হয়।
এক নজরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো
| বিষয় | তথ্য |
| পুজো | কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো |
| তিথি | আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা |
| ২০২৬ সালের পুজোর তারিখ | পঞ্জিকাভেদে ২৫ বা ২৬ অক্টোবর |
| পুজোর সময় | স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী সন্ধ্যা/রাত |
| প্রধান উপকরণ | সরা বা মূর্তি, ঘট, ধান, আতপ চাল, ফুল, ফল, ধূপ, প্রদীপ |
| প্রচলিত রীতি | আলপনা, লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ, পাঁচালি পাঠ, নৈবেদ্য ও জাগরণ |
| প্রধান ভোগ | চিঁড়ে, খই, নারকেল নাড়ু, মোয়া, ফল ও মিষ্টি |
কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর তারিখ নিয়ে পঞ্জিকাভেদে পার্থক্য রয়েছে। ভারতের সরকারি Rashtriya Panchanga-র কলকাতা-ভিত্তিক তথ্যের তালিকায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। Drik Panchang-ও দিল্লির জন্য ২৫ অক্টোবর তারিখ দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণকারী MyAstrology-র তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে পুজোর তারিখ ২৬ অক্টোবর, সোমবার। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পূর্ণিমা তিথি ২৫ অক্টোবর সকাল ১১:৫৭ থেকে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯:৪১ পর্যন্ত।
তাই আপনি যে বাংলা পঞ্জিকা বা পারিবারিক পঞ্জিকা অনুসরণ করেন, সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত তারিখ ও পুজোর সময় ঠিক করুন। বিশেষ করে বাঙালি পরিবারের পুজোর ক্ষেত্রে পঞ্জিকার নিজস্ব তিথি-নির্ণয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কোজাগরী পূর্ণিমার তিথি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। তাই ইংরেজি ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট তারিখের চেয়ে চন্দ্রতিথি এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালে পূর্ণিমা তিথি ২৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৬ অক্টোবর সকালে শেষ হচ্ছে—তবে পুজোর দিন নির্ধারণে কোন পঞ্জিকা কোন তিথি-নিয়ম অনুসরণ করছে, তার ওপর তারিখের পার্থক্য হতে পারে।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো রাতে কেন করা হয়?
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতের সঙ্গে জাগরণের একটি প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। ‘কোজাগরী’ নামটি ‘কে জাগে’ অর্থের সঙ্গে যুক্ত এবং এই কারণেই রাতে জেগে দেবীর আরাধনা করার রীতি প্রচলিত হয়েছে।
অনেক পরিবারে রাতে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ, ভজন বা নামস্মরণ করা হয়। তবে জাগরণের পদ্ধতি পরিবার ও স্থানীয় রীতি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো কেন করা হয়?
দেবী লক্ষ্মীকে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে সম্পদ, শস্য ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বাঙালি পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ঘরের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই পুজোর প্রস্তুতিতেও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব রয়েছে। বাড়ি পরিষ্কার করা, পুজোর জায়গা গুছিয়ে নেওয়া এবং আলপনা দেওয়ার মাধ্যমে দেবীকে ঘরে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতীকী ভাব প্রকাশ করা হয়।
কোজাগরী শব্দের অর্থ কী?
‘কোজাগরী’ শব্দটি ‘কে জাগে’ কথাটির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচলিত ব্যাখ্যা রয়েছে। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে জেগে দেবীর আরাধনা করার রীতিও এই বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই কারণেই কোজাগরী পুজোর সঙ্গে রাত জাগরণ বা জাগরণের রীতি এত পরিচিত।
কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আগে কী কী প্রস্তুতি নেবেন?
পুজোর দিন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এড়াতে আগের দিন থেকেই প্রয়োজনীয় কাজ গুছিয়ে রাখুন। বিশেষ করে পুজোর সামগ্রী, আলপনার উপকরণ এবং নৈবেদ্যের জিনিস আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে আয়োজন সহজ হয়।
পুজোর জায়গা পরিষ্কার করুন
প্রথমে পুজোর জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। মেঝে মুছে শুকিয়ে নিয়ে সেখানে পরিষ্কার আসন পেতে দিন।
অনেক পরিবারে কোজাগরী পুজোর আগে শুধু ঠাকুরের জায়গা নয়, পুরো বাড়ি পরিষ্কার করার রীতিও রয়েছে।
লক্ষ্মীর পায়ের আলপনা দিন
চালের গুঁড়ো বা পিটুলি দিয়ে আলপনা দেওয়ার রীতি বাঙালি ঘরে খুব পরিচিত। এর মধ্যে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ বিশেষভাবে প্রচলিত।
দরজার কাছ থেকে পুজোর জায়গা পর্যন্ত ছোট ছোট পায়ের ছাপ আঁকতে পারেন। এর সঙ্গে পদ্ম, ধানের শিষ বা অন্যান্য সরল নকশাও রাখা যায়।
পুজোর সামগ্রী আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন
ফুল, ধূপ, প্রদীপ, সিঁদুর, ধান, পান-সুপারি, কড়ি এবং নৈবেদ্যের উপকরণ আগে থেকে এক জায়গায় সাজিয়ে রাখুন।
এতে পুজোর সময় প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে হবে না এবং ধাপে ধাপে আচার পালন করা সহজ হবে।
কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর উপকরণের তালিকা
Kojagari Lakshmi Puja Samagri পরিবার ও অঞ্চলভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে নিচের সামগ্রীগুলি ব্যবহার করা হয়।
| পুজোর উপকরণ | ব্যবহার |
| লক্ষ্মীর সরা, মূর্তি বা ছবি | দেবীর আরাধনার জন্য |
| ঘট | ঘটস্থাপনের জন্য |
| নারকেল | ঘটের সঙ্গে |
| আমপাতা | ঘট সাজাতে |
| আতপ চাল | পুজো ও নৈবেদ্যে |
| ধান | লক্ষ্মীপুজোর প্রচলিত উপকরণ |
| দূর্বা | পুজোর উপচারে |
| ফুল | প্রচলিত পুজোর সামগ্রী |
| সিঁদুর | পুজোর উপচার |
| আলতা | প্রচলিত পুজোর সামগ্রী |
| পান ও সুপারি | পুজোর উপচার |
| কড়ি | লক্ষ্মীপুজোর প্রচলিত উপকরণ |
| হলুদ | পুজোর কাজে |
| ধূপ ও ধুনো | পুজোর সময় |
| প্রদীপ ও সলতে | দীপ জ্বালানোর জন্য |
| ফল | নৈবেদ্যের জন্য |
| চিঁড়ে ও খই | প্রচলিত ভোগ |
| নারকেল নাড়ু ও মোয়া | নৈবেদ্য |
| মিষ্টি | প্রসাদ ও ভোগের জন্য |
আপনার পরিবারে নির্দিষ্ট কোনো উপকরণ ব্যবহারের রীতি থাকলে সেটিও তালিকায় রাখুন। সব পরিবারে একই সামগ্রী ব্যবহার করা হয় না।
কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর নিয়ম: ধাপে ধাপে কী করবেন?
বাড়িতে পুজো করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই ধাপগুলি জানা থাকলে পুরো আয়োজন সহজ হয়। নিচের পদ্ধতিটি সাধারণ ঘরোয়া পুজোর জন্য; বিশেষ পারিবারিক আচার থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন।
১. পুজোর স্থান তৈরি করুন
পরিষ্কার জায়গায় আলপনা দিয়ে লক্ষ্মীর সরা, মূর্তি বা ছবি রাখুন। সামনে পরিষ্কার আসন পেতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাজিয়ে রাখুন।
২. ঘট স্থাপন করুন
পরিষ্কার ঘটে জল ভরে আমপাতা ও নারকেল রাখুন। পরিবারের প্রচলিত নিয়ম থাকলে ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে শুভ চিহ্ন আঁকতে পারেন।
৩. লক্ষ্মীর আসন সাজান
লক্ষ্মীর সরা বা মূর্তি পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট আসনে স্থাপন করুন। সামনে ধান, ফুল, কড়ি, পান-সুপারি এবং অন্যান্য পুজোর সামগ্রী রাখুন।
৪. গণেশের স্মরণ করুন
অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপুজোর আগে গণেশের স্মরণ বা পুজো করা হয়। আপনার পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী গণেশকে প্রণাম করে মূল পুজো শুরু করতে পারেন।
৫. দেবী লক্ষ্মীর পুজো করুন
ফুল, ধান, দূর্বা, সিঁদুর এবং অন্যান্য উপচার দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করুন। ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করুন।
৬. লক্ষ্মীর পাঁচালি বা মন্ত্র পাঠ করুন
বাঙালি পরিবারে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ কোজাগরী পুজোর পরিচিত একটি রীতি। পরিবারের প্রচলিত পাঁচালি বা লক্ষ্মীর মন্ত্র পাঠ করতে পারেন।
মন্ত্রের সঠিক উচ্চারণ জানা না থাকলে অনুমান করে দীর্ঘ মন্ত্র পাঠ করার প্রয়োজন নেই। পরিবারের প্রচলিত পুজোর বই বা পুরোহিতের নির্দেশ অনুসরণ করতে পারেন।
৭. নৈবেদ্য নিবেদন করুন
চিঁড়ে, খই, নারকেল নাড়ু, মোয়া, ফল, মিষ্টি এবং পরিবারের প্রচলিত অন্যান্য খাবার নৈবেদ্য হিসেবে সাজিয়ে দিন।
kojagari laxmi puja vidhi-তে ভোগের নির্দিষ্ট একটি তালিকা সব পরিবারের জন্য একই নয়। আপনার পরিবারের প্রচলিত নৈবেদ্য থাকলে সেটিই রাখতে পারেন।
৮. আরতি করুন
পুজোর শেষে ধূপ, প্রদীপ বা ধুনো দিয়ে আরতি করুন। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে প্রণাম করে দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করতে পারেন।
৯. রাত জাগরণের রীতি পালন করুন
কোজাগরী পুজোর সঙ্গে রাতে জেগে থাকার রীতি যুক্ত। অনেক পরিবারে পুজোর পরে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ, ভজন, নামস্মরণ বা অন্যান্য পারিবারিক আয়োজন করা হয়।
রাত জাগরণ কীভাবে করবেন, তা আপনার পরিবারের প্রচলিত রীতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর ভোগে কী কী দেওয়া হয়?
কোজাগরী পুজোর নৈবেদ্যে চিঁড়ে, খই, নারকেল নাড়ু, মোয়া, ফল ও মিষ্টির মতো খাবার দেখা যায়। কিছু পরিবারে খিচুড়ি বা অন্যান্য ঘরোয়া খাবারও ভোগে দেওয়া হয়।
ভোগের জন্য অনেক পদ তৈরি করতেই হবে এমন নয়। আপনার পরিবারের প্রচলিত খাবার পরিষ্কার পাত্রে সাজিয়ে দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করতে পারেন।
ভোগ সাজানোর সময় কী খেয়াল রাখবেন?
নৈবেদ্য পরিষ্কার পাত্রে সাজিয়ে রাখুন। ফল, মিষ্টি এবং শুকনো খাবার আলাদা পাত্রে রাখা যায়।
রান্না করা খাবার ভোগে রাখলে সেটিও পরিষ্কারভাবে পরিবেশন করুন। পুজোর পরে নৈবেদ্য প্রসাদ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারেন।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আলপনায় কী আঁকবেন?
লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ কোজাগরী পুজোর আলপনার সবচেয়ে পরিচিত অংশগুলির একটি। এর সঙ্গে পদ্ম, ধানের শিষ, শঙ্খ বা অন্যান্য শুভ নকশা যোগ করা যায়।
আপনি যদি আলপনা আঁকায় অভ্যস্ত না হন, তাহলে খুব জটিল নকশার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি পায়ের ছাপ, পদ্ম এবং সরল বর্ডার দিয়েও সুন্দর আলপনা তৈরি করা যায়।
লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ কোন দিকে দেবেন?
অনেক বাঙালি পরিবারে দরজা থেকে ঘরের ভিতরের দিকে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতি রয়েছে। এর মাধ্যমে দেবী ঘরে প্রবেশ করছেন—এমন একটি প্রতীকী অর্থ প্রকাশ করা হয়।
তবে আলপনার নকশা ও দিক নিয়ে পরিবারভেদে রীতি আলাদা হতে পারে।

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন?
পুজোর রীতি পরিবার ও অঞ্চলভেদে বদলায়। তাই অনলাইনে পাওয়া একটি তালিকাকেই সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিথি ও সময় আগে দেখে নিন
২০২৬ সালে বিভিন্ন পঞ্জিকায় ২৫ ও ২৬ অক্টোবর—দুই তারিখই দেখা যাচ্ছে। তাই পুজোর আগে আপনার অনুসৃত পঞ্জিকা দেখে তারিখ ও সময় নিশ্চিত করুন।
প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে কিনে রাখুন
ফুল, ধান, আতপ চাল, কড়ি, পান-সুপারি, সিঁদুর, প্রদীপের সলতে এবং নৈবেদ্যের উপকরণ আগে থেকে কিনে রাখুন।
পরিবারের প্রচলিত নিয়ম মনে রাখুন
আপনার বাড়িতে যদি নির্দিষ্ট সরা, ভোগ, পাঁচালি বা পুজোর কোনো বিশেষ ধাপের রীতি থাকে, সেটি বাদ দেবেন না। পারিবারিক রীতিই অনেক সময় পুজোর আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুরোহিত ছাড়া বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করা যায় কি?
অনেক পরিবারে বাড়ির সদস্যরাই নিজেদের প্রচলিত নিয়মে লক্ষ্মীপুজো করেন। আলপনা, ঘটস্থাপন, ধূপ-দীপ, দেবীর আরাধনা, নৈবেদ্য, পাঁচালি পাঠ ও আরতি—এই আয়োজনগুলি ঘরেই করা সম্ভব।
তবে আপনার পরিবারের পুজোয় বিশেষ মন্ত্র, সংকল্প বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট আচার থাকলে পুরোহিতের সাহায্য নেওয়া ভালো।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলির লক্ষ্মীপুজোর মধ্যে পার্থক্য
দুই ক্ষেত্রেই দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হলেও তিথি ও উৎসবের প্রেক্ষাপট আলাদা।
| বিষয় | কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো | দীপাবলির লক্ষ্মীপুজো |
| তিথি | আশ্বিনের পূর্ণিমা | কার্তিকের অমাবস্যা |
| সময় | পূর্ণিমার রাত | অমাবস্যার রাত |
| প্রধান বৈশিষ্ট্য | লক্ষ্মীর আরাধনা ও জাগরণের রীতি | দীপাবলির সঙ্গে লক্ষ্মীপুজো |
| বাঙালি রীতি | সরা, আলপনা ও পাঁচালির প্রচলন | পরিবার ও অঞ্চলভেদে আলাদা |
| নৈবেদ্য | চিঁড়ে, খই, নাড়ু, মোয়া, ফল ইত্যাদি | পরিবার ও অঞ্চলভেদে বিভিন্ন |
| আলপনা | লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ প্রচলিত | বিভিন্ন ধরনের নকশা দেখা যায় |
কোজাগরী পুজো আশ্বিন পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে পালিত হয়, আর দীপাবলির লক্ষ্মীপুজো কার্তিক অমাবস্যার সঙ্গে যুক্ত। তাই দুটির সময় ও কিছু আচার আলাদা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQs)
১. কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালে সরকারি Rashtriya Panchanga ও Drik Panchang-এ ২৫ অক্টোবরের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, আবার বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা-ভিত্তিক একটি ক্যালেন্ডারে ২৬ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে। আপনার অনুসৃত পঞ্জিকা অনুযায়ী তারিখ নিশ্চিত করুন।
২. kojagari laxmi puja vidhi কীভাবে বাড়িতে পালন করবেন?
বাড়ি পরিষ্কার করে আলপনা দিন, লক্ষ্মীর আসন তৈরি করুন এবং ঘটস্থাপন করুন। এরপর দেবীর পুজো, পাঁচালি বা মন্ত্র পাঠ, নৈবেদ্য, আরতি এবং পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জাগরণ করুন।
৩. কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর জন্য কী কী লাগে?
লক্ষ্মীর সরা বা মূর্তি, ঘট, নারকেল, আমপাতা, ধান, আতপ চাল, ফুল, দূর্বা, সিঁদুর, পান-সুপারি, কড়ি, ধূপ, প্রদীপ ও নৈবেদ্যের সামগ্রী সাধারণত লাগে।
৪. কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় কী ভোগ দেওয়া হয়?
চিঁড়ে, খই, নারকেল নাড়ু, মোয়া, ফল ও মিষ্টি প্রচলিত নৈবেদ্যের মধ্যে রয়েছে। পরিবারভেদে খিচুড়ি বা অন্যান্য ঘরোয়া খাবারও দেওয়া হতে পারে।
৫. কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় রাতে জাগতেই হয় কি?
রাত জাগরণ এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত একটি প্রচলিত রীতি। তবে কীভাবে বা কতক্ষণ জাগবেন, তা আপনার পরিবারের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পালন করা যেতে পারে।
উপসংহার
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনের মধ্যে শুধু পুজোর আচার নয়, বাঙালি পরিবারের বহু পুরনো রীতি ও স্মৃতিও জড়িয়ে থাকে। বাড়ি পরিষ্কার করা, আলপনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকা, সরা সাজানো, নৈবেদ্য তৈরি করা এবং পাঁচালি পাঠ—প্রতিটি ধাপেই সেই পারিবারিক আবহ ফুটে ওঠে।
আপনি যদি kojagari laxmi puja vidhi মেনে বাড়িতে পুজো করতে চান, তাহলে প্রথমেই আপনার অনুসৃত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি ও সময় নিশ্চিত করুন। এরপর প্রয়োজনীয় উপকরণ গুছিয়ে আলপনা, ঘটস্থাপন, দেবীর আরাধনা, নৈবেদ্য ও আরতির প্রস্তুতি নিন। পরিবারের নিজস্ব রীতি থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। এতে পুজোর আয়োজন যেমন সহজ হবে, তেমনই বহুদিনের পারিবারিক ঐতিহ্যও বজায় থাকবে।



